৪টি বিস্ময়কর আবিষ্কার যা ভবিষ্যতে আমাদের জীবনে পাল্টে দেবে

প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের সুযোগ-সুবিধাকে বাড়িয়ে তুলতে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার হচ্ছে। পৃথিবীর সবদেশেই এখন প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে। সেখান থেকে ভারতও পিছিয়ে নেই। ভারতেও এমন কিছু প্রযুক্তি ও ব্যবহার্য জিনিস তৈরি হয়েছে যা মানুষের জন্য অনেক সুবিধা বয়ে এনেছে। তো চলুন আজকে জেনে নেই এমন কিছু বিস্ময়কর আবিষ্কার যা ভবিষ্যতে আমাদের জীবনে পাল্টে দেবে।

আইএফও ড্রোন (IFO Drone)

আইএফও ড্রোন (IFO Drone)
এটি বিশ্বের সবথেকে সুন্দও ও বিষ্ময়কর একটি ড্রোন। এটি দেখে যেকেউ অবাক হয়ে যাবে। এটি দেখে সকলের মনে এটিতে করে ভ্রমণের জন্য উৎসাহ জাগবে। কেননা এটির ডিজাইনই কিছুটা এরকম। এই ড্রোনটিতে সবমিলিয়ে আটটি বৈদুত্যিক ইঞ্জিন লাগানো আছে। আর মাঝখানে ক্যাপসুল আকৃতির একটি প্যাসেঞ্জার সিট আছে। যা দেখতে অনেক সুন্দর ও আকার্ষণীয় দেখায়। এই আটটি বৈদুত্যিক ইঞ্জিনের সাহায্যে ড্রোন প্রতিঘণ্টায় প্রায় ১৯৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। এই ড্রোনটির ডায়ামিটার ৪ দশমি ৭ মিটার। আকাশে উড়ার সময় এই ড্রোনটিকে দেখতে এলিয়েনদের স্পেসশিপের মতোই লাগে। এর ব্যাটারিকে একবার চার্জ করে এটিতে ৭০ মিটার পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়। মাটিতে নামার জন্য সিক্স ফোল্ডিং এক্সটেন্ডিং সাসপেনশন লাগানো আছে। যাতে এই ড্রোনটি খুব সহজেই মাটিতে নামতে পারে। এই ড্রোনটি ভবিষ্যতে আমাদের পৃথিবীর রূপ বদলে দেবে বলে আশা করা যায়। আর এটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি যেকোন সময় যেকোন স্থানে অবতরণ করানো যায়।

নিক্সি ড্রোন (NIXIE Drone)

নিক্সি ড্রোন (NIXIE Drone)
NIXIE ড্রোন বিশ্বের সবথেকে ছোট ড্রোন ক্যামেরা। যেটিকে আপনি আপনার হাতেও পরিধান করতে পারেন। আর এটিকে চালু করাও খুবই সহজ। হাত থেকে খোলার সাথে সাথে এই ড্রোনটি চালু হয়ে যায়। আর আকাশে উড়া শুরু করে। ড্রোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো ধরণের রিমোটের প্রয়োজন হয় না। এটিতে এমন প্রোগাম সেট করা আছে যার সাহায্যে ড্রোনটি ব্যবহারকারীর ছবি ও ভিডিও তুলতে পারে। এই ড্রোনটিকে ৩রা নভেম্বর ২০১৪ সালে সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়। এই ড্রোনটি ব্যবহার করে আপনি যেকোন সময় যেকোন পরিস্থিতে নিজের ছবি ও ভিডিও তুলতে পারেন। অর্থাৎ আপনি এই ড্রোনটি দিয়ে এমন জায়াগায়ও ছবি বা ভিডিও তুলতে পারবেন যেখানে কোনো ধরণের সাধারণ ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এই ড্রোনটির ওজন মাত্র ৪৫ গ্রাম। যেকারণে এটিকে কোথাও নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হয়।

এলজিইউ প্লাস ড্রোন স্মার্টফোন (LGU+ Drone Smart Phone)

এলজিইউ প্লাস ড্রোন স্মার্টফোন (LGU+ Drone Smart Phone)
চাইনিজ একটি কোম্পানি এমন একটি স্মার্টফোন তৈরি করেছে যেটি শূণ্যে উড়তে পারে। এবং আপনার আপনার ছবিও তুলতে পারে। এটি অন্যান্য স্মার্টফোনগুলোর চেয়ে কম ফিচারসমৃদ্ধ স্মার্টফোন। এলজি বিশ্বের একমাত্র কোম্পানি যারা সর্বপ্রথম ড্রোন ফোন তৈরি করেছে। এটি বিষ্ময়কর ফোনটি দিয়ে আপনি সবকিছু রেকর্ড করতে পারবেন। অর্থাৎ এই ফোন উড়ার সময়ই আপনার ছবি তুলতে পারবে এমনকি ভিডিও রেকর্ড করতে পারবে। এই ফোনটির সাহায্যে আপনি এমন জায়গায় গিয়েও ছবি তুলতে পারবেন যেখানে কোনো সাধারণ ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এই ফোনটির সাহায্যে আপনি বাঙ্গি জাম্পিং করার সময় অথবা প্যারাগলাইডিং এর সময়ও ছবি তুলতে পারবেন। এমনকি খাবার তৈরির সময় আপনি এই ফোনটির সাহায্যে কারো সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। বন্ধুরা আপনি কোন স্মার্টফোনটি ব্যবহার করেন সেটা আমাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এই ড্রোন ফোনটি আপনার কেমন লেগেছে সেটাও কমেন্ট করে জানাবেন।

ইহাং ১৮৪ (EHANG 184)

ইহাং ১৮৪ (EHANG 184)
এই কোয়াডকপ্টারটিকে চায়নার একটি কোম্পানি ডিজাইন করেছে। এইজন্যই চীনকে প্রযুক্তির বাদশাও বলা হয়ে থাকে। কেননা চীন সবার আগে নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার করে। এমনই একটি আবিষ্কার হচ্ছে চায়নার এই যাত্রীবাহী ড্রোনটি যেটি সর্বপ্রথম ডুবাইয়ের রাস্তায় দেখতে পাওয়া যাবে। এই ড্রোনটি পরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন মোড় উন্মোচন করবে। এটি বিশ্বের সর্বপ্রথম ড্রোন হবে যেখানে দুইজন মানুষ একসাথে বসে ড্রোনটিতে ভ্রমন করতে পারবে। এটি উদ্ভাবক কোম্পানি দাবি করেছে যে এটি যাতায়তের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ একটি ড্রোন। এই ড্রোনটিকে তৈরি করার জন্য গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বৈদুত্যিক শক্তি দিয়ে চালিত একটি ড্রোন।

এই বিষ্ময়কর প্রযুক্তিগুলোর কোনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে সেটি আমাকে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আর এরকম আরো মজার সব আবিস্কার সম্পর্কে জানতে সাথে থাকুন SbanglaPro এর সাথে। ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments