মশার উপদ্রব : সিসিক মেয়রের কাছে খোলা চিঠি

সিসিক মেয়রের কাছে খোলা চিঠি


শীত শেষ হতে না হতে নগরীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। আসছে বর্ষা, উঁকি দিচ্ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। এরইমধ্যে মশার এমন উৎপাত ভাবিয়ে তুলছে নগরবাসীকে। মশক নিধনে নানা কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার ধীরগতি লক্ষণীয়। 


আর কালক্ষেপণ না করে মশক নিধনে এখনই সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের আর্জি জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে সংবাদমাধ্যমের মধ্য দিয়ে একটি খোলা চিঠি উপস্থাপন করেছেন নগরীর এক নাগরিক মোঃ আজিজুর রহমান।


উনার খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো :


১০ এপ্রিল ২০২০

মাননীয় মেয়র,

সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট।

বিষয়ঃ মশার উপদ্রব কমাতে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে।

জনাব,

মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ সিলেট নগরবাসী। উপদ্রব বেশি নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ কলোনি ও নালা-নর্দমা বেষ্টিত আবর্জনায় এলাকাগুলোতে। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে কিন্তু মশার প্রকোপে এ বন্দি জীবনও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঘরে বসেই মশার যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে আমাদের।ইদানীং এতো মশা হয়েছে যে কেউ ৪-৫ মিনিটও স্থির হয়ে বসে থাকাটাও দায়। ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে ও মশা মারার ওষুধ স্প্রে করেও রেহাই মিলছে না। শিক্ষার্থীরা মশার যন্ত্রণায় ঠিকমতো পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছে না। আবার মশার এই উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নগরবাসীকে তাড়া করছে গত ডেঙ্গু মৌসুমের ভয়।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মশার উৎপাত এত বাড়ে যে মশারি ছাড়া টেকাই যায় না। কিন্তু মশারির মধ্যে আর কত সময় থাকা যায়? কর্তৃপক্ষের উচিত, নগরবাসী যেন না ভোগে, সেই ব্যবস্থাই নেয়া।মশা একটি ক্ষুদ্র প্রাণী হলেও এটি ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বেশ কয়েকটি মারাত্মক রোগের জীবাণু বহন করে। 
ডেঙ্গুতে আমাদের দেশে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়। কয়েক বছর ধরে চিকুনগুনিয়ার উৎপাত রীতিমতো এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। 


মশা নিধন না করার ফলে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগরবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে সিলেট সিটি করপোরেশনকে এখনই তৎপর হতে হবে।

শুধু তাই নয়, মশা নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ বসত-বাড়ি, আঙিনা ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব কিছুর পাশাপাশি মশা থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার আগে আগেই ঘরের দরজা, জানালা বন্ধ করে রাখতে পারেন। মশা ডিম পাড়তে পারে এমন জায়গা থেকে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে পুরো ঘর যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখতে পারেন। এতে করে মশার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া সম্ভব।

সবিশেষ, সিলেট সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, নগরবাসীকে স্বস্তিতে রাখার দায়িত্বটা আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে মর্জি হয়। নতুবা মশার উপদ্রবে টিকে থাকা যে দায়। 
আশাকরি আপনারা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিনীত,
মোঃ আজিজুর রহমান।

Post a Comment

0 Comments