যে সব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়, জেনে নিন!



ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ রোজা। প্রত্যেক সুস্থ-সবল মানুষের ওপর রোজা ফরজ। মোটাদাগে খাদ্য, পানীয় ও জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। তবে এর বেশ কিছু বিধিবিধান রয়েছে। এগুলো রোজার প্রয়োজনীয় মাসয়ালা-মাসায়েল হিসেবে পরিচিত। যারা রোজা রাখেন তাদের প্রত্যেককে এই মাসয়ালাগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা থাকা চাই। অনেক সময় প্রয়োজনীয় বিধানগুলো জানা না থাকার কারণে সারাদিন উপোস থাকার পরও রোজা হয় না। এ কারণে শরিয়তে প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিক্ষা করাকে ফরজ করা হয়েছে। বিশুদ্ধভাবে রোজা পালনের জন্য যতটুকু ইলম বা জ্ঞান দরকার ধর্মীয় দৃষ্টিতে তা ফরজ বা অবশ্যই পালনীয়। 

রোজা ভাঙ্গার কারণসমূহ-

(১) পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়; যদি রোজাদারের এ কথা মনে থাকে যে; সে রোজা রেখেছে। সুতরাং কেউ যদি রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার ও সঙ্গম করে, তবে তার রোজা ভাঙবে না। অবশ্য, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হব। (রদ্দুল মুহতার, ৩য়খণ্ড, ৩৬৫ পৃষ্ঠা)

(২) কুলি করা অবস্থায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও পানি কণ্ঠনালী বেয়েনিচে নেমে গেলে কিংবা নাকে পানি দেওয়ার কারণে তা মগজে পৌঁছে গেলে রোজা ভেঙে যাবে। কিন্তু যদি রোজাদার হওয়ার কথা ভুলে যায়, তবে রোজা ভাঙবে না; যদিও তা ইচ্ছাকৃত হয়। অনুরূপভাবে রোজাদারের দিকে কেউ কোন কিছু নিক্ষেপ করলো, আর তা তার কণ্ঠে পৌঁছে গেলো; তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। (আল জাওয়াতুন নাইয়ারাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭৮)

(৩) ইচ্ছাকৃত মুখভর্তি বমি করলে রেজা ভেঙে যাবে। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত হলে ভাঙবে না। (দুররে মুখতার, ৩য় খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা)

(৪) হুক্কা, সিগারেট, চুরুট ইত্যাদি পান করলেও রোজা ভেঙে যায়; যদিও নিজে ধারণা করে যে, কণ্ঠনালী পর্যন্ত ধোঁয়া পৌঁছেনি। (বাহারে শরীয়ত, ৫ম খণ্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা)

(৫) পান কিংবা তামাক খেলেও রোজা ভেঙে যায়; যদিও সেটার পিক বারবার ফেলে দেয়া হয়। কারণ কণ্ঠনালীতে সেগুলোর হালকা অংশ অবশ্যই পৌঁছে থাকে। (বাহারে শরীয়ত, ৫ম খণ্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা)

(৬) দাঁতের মধ্যভাগে কোন জিনিস ছোলা (চানাবুট) পরিমাণ কিংবা তার ছেয়ে বেশি আঁটকে থাকার পর তা খেয়ে ফেললে। কিংবা ঐ পরিমাণের চেয়ে কম; কিন্তু মুখ থেকে বের করে পুনরায় খেলে,রোজা ভেঙে যাবে। (দুররে মুখতার, ৩য় খণ্ড, ৩৯৪ পৃষ্ঠা)

(৭) নাকের ছিদ্র দিয়ে ঔষধ প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে। (আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৪)


রোজা মাকরুহ হয় যেসব কারণে-

যাবতীয় হারাম-মন্দ কাজ; যেমন: মিথ্যা, গীবত, চোগলখোরি, গালাগালের কারণে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। এসব কারণে রোজা সরাসরি ভঙ্গ না-হলেও সে রোজার কবুলিয়্যত কতটুক, তা যথেষ্ট ভাববার বিষয়। বিনা কারণে জিহ্বার মাধ্যমে কোনো জিনিসের স্বাদ অনুভব করা বা চিবানো মাকরুহ। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে স্বাদ টেস্ট করার অনুমতি রয়েছে। তবে তা যেন কণ্ঠনালি অতিক্রম না-করে। করলে রোজা ভেঙে যাবে (দুররে মুখতার, ৩য় খণ্ড, ৩৯৫ পৃষ্ঠা)।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পর চুম্বন করা মাকরুহ নয়; কিন্তু ঠোঁট ও জিহ্বা শোষণ করা মাকরুহ। এরূপ করার ফলে যদি পেটে কিছু চলে যায়; তবে রোজা ভেঙে যাবে (রদ্দুল মুখতার, ৩য় খণ্ড, ৩৯৬ পৃষ্ঠা)। এমন ভারী কাজ করা মাকরুহ; যার কারণে রোজাদার অত্যধিক ক্লান্ত হয়ে রোজা ভেঙে ফেলার অবস্থা সৃষ্টি হয়। সুতরাং কেউ যদি রক্তদানে অধিক ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে পারবে কি-না; এ ব্যাপারে সন্ধিহান হয়, তবে রক্ত দেয়া মাকরুহ (দুররে মুখতার, ৩য় খণ্ড, ৪০০ পৃষ্ঠা)।
রোজার বিধান নামাজের মতোই ফরজ। অতএব, রোজাদারের উচিত রোজা পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা; যাতে রোজা ভঙ্গ কিংবা মাকরুহ না-হয়। ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করার কোনো অনুমতি তো নেই-ই, অনিচ্ছাসত্ত্বে যদি কারো রোজা ভেঙে যায়; তবে যেন সে অবশ্যই তার কাজা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রোজা তাঁর জন্যই, তিনিই রোজার বিশেষ প্রতিদান দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এসবাংলাপ্রোডটকমের সঙ্গে থাকুন। রমজান সম্পর্কিত সুন্দর সুন্দর ইসলামী আলোচনা পড়ুন। কুরআন-হাদীস মোতাবেক আমলী জিন্দেগী যাপন করে রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফেরাত অর্জন করুন। আমীন, ছুম্মা আমীন।



Post a Comment

0 Comments