করোনা: শিশুদের দেহে বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে





আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সারাবিশ্বে এখন এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাস ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টাচ্ছে। প্রথম অবস্থায় এটি শিশুদের তেমন ক্ষতি করতে না পারলেও ক্রমে দেখা যাচ্ছে তা শিশুদেরও ক্ষতি করা শুরু করেছে। এ নিয়ে শঙ্কিত ব্রিটেনের চিকিৎসকরা।

সম্প্রতি, অনেক শিশুর পায়ের আঙুলের ত্বকে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগেরই পায়ের আঙুলের ডগা লালচে অথবা বেগুনি রঙের হয়ে যাওয়া। সেখানে ছোট ছোট ফোস্কামতোও দেখা দিচ্ছে! আবার কারো কারো হাতের আঙুলেও দেখা গেছে এটি। কারো কারো ক্ষেত্রে শুধু রংটাই পরিবর্তিত হয়, আবার কারো কারো বেলায় জায়গাটা গরম হয়, ব্যাথা থাকে। 



চলতি সপ্তাহেই কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সারভিল্যান্স প্রোগ্রাম (সিপিএসপি) চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্ক বার্তা জারি করেছে। সেই বার্তায় শিশু-কিশোরদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের হাতে-পায়ে বিশেষ করে চামড়ায় কোনো ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে কী না- সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।যাদের লক্ষণগুলো খুবই অস্বাভাবিক।


চিকিৎসকরা বলছেন, এসব উপসর্গের মধ্যে আছে ফ্লু-র মতো জ্বর এবং দেহের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি। এছাড়া থাকে তীব্র জ্বর, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে 'র্যাশ' বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়া। এতে আক্রান্তদের মধ্যে কিছু শিশু করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে দেখা গেছে, তবে সবাই নয়। তাদের কারো কারো পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, হৃৎপিণ্ডের প্রদাহ, এবং রক্ত পরীক্ষার অস্বাভাবিক ফল আসার মতো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

ফলে এখন উদ্বেগ বাড়ছে যে, যুক্তরাজ্যের শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত এক ধরনের প্রদাহজনিত রোগ ছড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এমনও হতে পারে যে এটা হয়তো এমন এক সংক্রমণ যা এখনো শনাক্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি কোন কোন সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে হেরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, তাহলে এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।


এনএইচএসের সতর্কবাণীতে এসব ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়া শিশুর সংখ্যা খুবই কম।

কেমব্রিজের একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজিমা পাঠান বলেছেন, স্পেন এবং ইতালিতে থাকা তার সহকর্মীরা শিশুদের মধ্যে একই ধরনের সংক্রমণের খবর তাকে জানিয়েছেন। 

Post a Comment

0 Comments