সোনাগাজীতে মামার গণধর্ষণের শিকার ভাগ্নি: গ্রেপ্তার-২




ছবিঃ প্রতিকী।

সোনাগাজী, ফেনী প্রতিনিধিঃ সোনাগাজীতে স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মিমাংসার কথা বলে এক গৃহবধূ (১৯) নিজ মামার প্রতারণার খপ্পরে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামাসহ দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই নারী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর ফকিরা ইউনিওনের গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা। গত কয়েকদিন আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর ওই নারীকে তাঁর স্বামী কোম্পানীগঞ্জ থেকে এনে সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকায় নানার বাড়িতে রেখে যায়। ওই নারীর মামা মো. হারুন ও তার শ্বশুর বাড়ি কোম্পানীগঞ্জের চর ফকিরা ইউনিয়নের একই এলাকায়। 

বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে মো. হারুন তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ মিমাংসা করে দেওয়া সহ তাঁকে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় মো. হারুন তাঁর শ্বশুর বাড়িতে ওই নারীকে রেখে দেয়। হারুনের শ্বশুর বাড়িতে দুই দিন থাকার পর ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় মাসুম ও হৃদয় নামে দুজন লোক হারুণের শ্বশুর বাড়িতে যায়। এরপর হারুন ওই নারীকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে তাঁকে ওই বাড়িতে দিয়ে আসতে তৈরী হতে বলে। রাত আটটার দিকে ওই নারীকে নিয়ে হারুনসহ তিনজন সিএনজি যোগে রওনা হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাঁরা ওড়না দিয়ে ওই নারীর হাত-পা ও চোখ বেঁধে এবং মুখ চেপে ধরে সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকায় নিয়ে এসে একটি পুকুর  পাড়ে তিনজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা আবার তাঁকে গাড়িতে করে হারুনের শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে তার জ্ঞান ফিরে আসলে তাঁরা ঘটনাটি কাউকে বললে তাকে ও তার স্বামীকে হত্যা করার হুমকি দেয়। গৃহবধূর স্বামী পরদিন সকালে লোকমারফতে জানতে পেরে ওই নারীকে তাঁর মামার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়।
ছবিঃ প্রতিকী।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানায়, স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রতারক মো. হারুনের যোগসাজসে তাঁকে জিম্মি করে তিনজন লোক রাতের বেলায় জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। তিনি অসুস্থ ছিলেন বলেই থানায় মামলা করতে দেরি হয়েছে। গৃহবধূর পরিবারের লোকজন বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রজ্জু করা হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতেই ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর শারিরীক সব পরীক্ষার পর তাকে স্বামীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments