গাজীপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস, কিশোর গ্রেপ্তার


গাজীপুর প্রতিনিধি :: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বন্ধুর সহযোগিতায় অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে, পরে ধারণকৃত ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (জোহর আলী নগর) এলাকায় গত (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে। 

গত মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে ওই কিশোরীর পিতা শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করলে পরে তা মামলা হিসেবে নেয় পুলিশ। এরপর এ ঘটনায় পুলিশ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার বরমী থেকে অভিযুক্ত  প্রধান আসামী বাপ্পি খানকে (১৪) কে বরমী হতে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত বাপ্পি জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা আর এ ঘটনায় অপরজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায়। 

ভিকটিম ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তারা উভয়েই পরিবারের সাথে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড হাশেম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। এ সুবাদে অভিযুক্ত কিশোর ও ভিকটিম কিশোরীর পরিবার পাশাপাশি বাড়িতে ভাড়া থাকায় তাদের মধ্যে পরিচয় আর সখ্যতা গড়ে উঠে। 

ওই কিশোরীর স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়,  গত সোমবার (১১ মে) অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী কিশোরের ভাড়া বাড়ি ফাঁকা থাকার সুবাদে কিশোরীকে ফুসলিয়ে ডেকে তাদের ঘরে নিয়ে যায়। পরে ঘরের দরজা আটকে ভিতরে নিয়ে কিশোরীকে অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিশোরীকে সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এসময় ওই কিশোরের সাথে থাকা তার ১৫ বছর বয়সী সহযোগী মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও  এবং নগ্ন ছবি ধারণ করে। এ ধর্ষণের ঘটনা কারও নিকট যাতে প্রকাশ না করা হয় বলে কিশোরীকে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র প্রচারের ভয় দেখায় অভিযুক্তরা। পরে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে ১৪ বছর বয়সী কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ষণের ওই ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেয়।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, কিশোরীর পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ভিকটিম ওই কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রকাশিত অশ্ললীল ভিডিওটি আলামত হিসেবে মামলার সহযোগিতা করবে। এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশের কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আল মামুন জানান, মামলার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বরমী গ্রামে ওই কিশোরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অপরজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments