ফেসবুকে মেয়ের বয়সী ছাত্রীদের ম্যাসেঞ্জারে প্রেম নিবদন করেন প্রধান শিক্ষক!


এসবাংলাপ্রো ডেস্ক: মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর বিরুদ্ধে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ছাত্রীদের প্রেম নিবেদনের অভিযোগ উঠেছে। 


হায়দার আলী তার নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির ম্যাসেঞ্জার বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীদের ব্যবহৃত ম্যাসেঞ্জারে 'জান আই লাভ ইউ। আমাকে কষ্ট দিও না। আই মিস ইউ। তুমি কি সত্যি আমাকে একটুও ভালবাসো না, এতদিন যদি আল্লাহকে ডাকতাম তবে তিনি সাড়া দিতেন। কিন্তু তুমি সাড়া দিলে না' এমন আপত্তিকর কুরুচিপূর্ণ বার্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রেম নিবেদন করে আসছেন।


অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রধান শিক্ষক নিজের ভ্যারিফাইড আইডি থেকে প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কয়েকজন ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। স্কুল থেকে বিদায় নেয়া এসএসসি শিক্ষার্থীরাও তার হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না।


সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে এমন আপত্তিকর বার্তা দেয়ায় সে এটি ফাঁস করে দেয়।



সোমবার (১৮ মে) প্রধান শিক্ষকের এইরকম কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান উল্লাহ শরিফী এর কাছে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। 


এদিকে ছাত্রীদের সাথে ওই প্রধান শিক্ষকের ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর কথাবার্তার কয়েকটি স্ক্রীনশর্ট চিত্র রোববার (১৭ মে) থেকে ফেসবুকে সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপর থেকে প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠেছে। এমনকি তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও। তারা তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতেও সঙ্কিত হচ্ছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, হেড স্যারের আইডিতে নাকি মাসখানেক ধরে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই তিনি গত রবিবার পুরনো আইডি ব্লক করে নতুন আইডি খুলেছেন। আমাদের সেই আইডিতে রিকোয়েস্ট পাঠাতে বলেছেন। এর আগেও চলতি বছরের শুরুতে লিতুনজিরা নামে এক প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হায়দার আলী।



তবে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কয়েকদিন ধরে আমার ব্যবহৃত আইডিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র আইডি হ্যাক করে এসব কাজ করেছে।


অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইডি হ্যাক হলে পুলিশে জিডি করতে হয় সেটা আমি জানি না।


অভিযোগকারী দুই ছাত্রী ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা হয়রানির কথা তুলে ধরেছে।


এসময় এক ছাত্রী জানায়, গত আগস্টে তাকে ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর কথাবার্তা লিখলে সে প্রধান শিক্ষকের আইডি ব্লক করে দেয়।


অপর আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্যার তার নিজের রুমে ডেকে নিয়ে ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতেন এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা লেখার প্রতিবাদ করলেই বিদ্যালয়ে না আসার হুমকি দিতেন।


এক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাশে যেয়ে তিনি আপত্তিকর চোখে তাকান এবং শরীরের বিভিন্ন জায়াগায় স্পর্শ করেন। তার এমন ব্যবহার বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউএনওকে জানানোর কথা বললেই প্রধান শিক্ষক কিছুদিন চুপ হয়ে যেতেন। কিছুদিন পর থেকে আবার আরেকজনের সঙ্গে এমন আপত্তিকর ব্যবহার শুরু করতেন।


নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, আমি সংস্কৃতিমনা মানুষ। ছাত্রীদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। এটা অনেকে সহ্য করতে পারে না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র আইডি হ্যাক করে এসব কাজ করেছে।


মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ছাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


Post a Comment

0 Comments