দুই-মেধাবী মেয়ের বৃত্তি ও টিউশনির টাকায় কেনা চারটি গরু চুরি; বাবার বুক ফাঁটা কান্না!

দিনমজুর আনিসুর গরু শূণ্য গোয়ালঘরে।

ডেস্ক রিপোর্ট:: পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার ঘটবর গ্রামে দুই মেধাবী ছাত্রীর বৃত্তি ও টিউশনির টাকায় কেনা চারটি গরু চুরি হয়ে গেছে ।ওই ছাত্রীদের দিনমজুর বাবা আনিসুর রহমানের শেষ স'ম্বল বলতে দুই লাখ টাকায় কেনা চারটি গরুই। । এই গরু হারানোর শোকে তিনি কেঁদেই চলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ; পেশায় দি'নমজুর আনিসুরের বাড়ি সদর উপজেলার ঘটবর গ্রামে ।

রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন,, । ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে আনিসুরের স্ত্রী আয়েশা বেগম দেখেন ,গোয়ালে গরু নেই। তিনি চিৎকার করতেই প্রতিবেশীরা এসে জড়ো হন। আশ-পাশে অনেক স্থানে খোঁজ করেও গরুর স'ন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা , গভীর রাতে তালা -ভেঙে গরুগুলো নিয়ে গেছে চোরেরা ।দিনমজুর আনিসুরের চার মেয়েই অত্যন্ত মেধাবী । বড় মেয়ে আফসানা খাতুন 'এসএসসি 'ও 'এইচএসসিতে'- জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ইংরেজি বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন ।। 

মাস্টার্স পড়া অবস্থায় সম্প্রতি তার বিয়ে দিয়েছেন । মেজো মেয়ে রোমানা আক্তার 'এসএসসি' ও 'এইচএসসিতে' জিপিএ-৫ পান। তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজে ডেন্টাল বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন । সেজো মেয়ে লাবনী আক্তার 'এসএসসিতে' জিপিএ-৫ এবং 'এইচএসসিতে' জিপিএ-৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হন । তিনি এখন রংপুর 'আইএইচটিতে রেডিওলজি' বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

এ ছাড়া ছোট মেয়ে রিপা আক্তার পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বড় মেয়ে আফসানা ইসলামী ব্যাংক থেকে মাসে তিন হাজার ও মেজ মেয়ে রোমানা ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে মাসে দুই হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি পান । 

সেই টাকার সঙ্গে টিউশনি ও বাড়ির কিছু টাকা যোগ করে বাবাকে চারটি গরু কিনে দেন তারা ।স্বপ্ন ছিল গরুগুলো বিক্রি করে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাবেন । 

রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রোমানা আক্তার বলেন, গরুগুলো আমরা কিনেছিলাম যেনো বিপদের সময় বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারি ।এখন আমাদের আর কিছু রইল না। সামনে আমার পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে ১২ হাজার টাকা লাগবে । সেই টাকা কোথায় পাব ভেবে পাচ্ছি না ।করোনার মধ্যে এমনিতে টানাপোড়েনে দিন যাচ্ছে ।এখন সব কিছু এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে । 

আনিসুর রহমান বলেন , গরু চুরি যাওয়ায় ছোট মেয়ে দুইটা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে ।আমি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি । তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন , ওই পরিবারের চারটি গরু চুরির ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি ।চোর চক্রটিকে ধরার জন্য এরই মধ্যে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে । আশা করি, 'দ্রুত চোরদের শনাক্ত ও গরু উদ্ধার করতে পারব। '

এসবাংলাপ্রো.কম/রহমান

Post a Comment

0 Comments