নারায়ণগঞ্জে নামাজের সময় মসজিদে এসি বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের আশঙ্কা


ডেস্ক রিপোর্ট:: নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে ৪০ জনের মতো মুসল্লি দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণে দগ্ধদের শরীরের ৬০-৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, নামাজে প্রায় ৮০ জনের মতো মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন। পরে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধদের উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নাত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এসময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জনের মতো মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের প্রায় প্রায় সবাই দগ্ধ হন।

নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুল হোসেন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসা অন্তত ২০-২৫ জন দগ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢামেকসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাই জরুরি ভিত্তিতে সরকারি, বেসরকারি ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।



ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আরেফিন জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৮-৯ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর আগে স্থানীয়রা বেশিরভাগ দগ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। দগ্ধদের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে, তাদের শরীরে হাত দেওয়া যাচ্ছিলো না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণ অর্ধশতাধিক আহতের মধ্যে ৩৬ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে মো. ফরিদ (৫৫), শেখ ফরিদ (২১), মনির (৩০), মোস্তফা কামাল (৩৫), রিফাত (১৮) মাইনুউদ্দিন (১২), মো. রাসেল রাশেদ, নয়ন, বাসার মোল্লা, বাহাউদ্দিন, শামীম হাসান, জোবায়ের, জয়নাল, মোহাম্মদ আলী সাব্বির, মোহাম্মদ আলী, মামুন, কুদ্দুস বেপারী, মোহাম্মদ নজরুল, সিফাত, আব্দুল আজিজ, নিজাম, মো. পেনান, নাদিম হুমায়ুন, ফাহিম, জুলহাস, ইমরান হোসেন, আব্দুস সাত্তার, আমজাদ, মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক, মোয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনের নাম পাওয়া গেছে।



ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে বলেন, ৩৬ জনের মধ্যে বেশির ভাগেরই মেজর বার্ন। প্রাথমিকভাবে অ্যাসেসমেন্ট চলছে, তবে কারও অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। দগ্ধদের অনেককে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, সব কিছু শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে কত জনকে কোথায় নেওয়া হলো, সেটা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এককথায় বলতে গেলে, বেশিরভাগেরই পুড়ে যাওয়ার পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানান তিনি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
ছবি: সংগৃহীত

Post a Comment

0 Comments