বিয়ে বাড়িতে খাবার খেয়ে বিয়ে না করেই পালিয়ে গেলো বর!


ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দেউলডাংরা গ্রামে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিয়ে না করেই পুলিশ ও ইউএনওকে আসর ছেড়ে পালিয়েছেন বর ও অতিথিরা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর( শুক্রবার) দেউলডাংরা গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ের (১৫) সাথে একই ইউনিয়নের হাড়িয়াকান্দি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলামের (২২) বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।নকল জন্মসনদ বানিয়ে মেয়ের বয়স বাড়িয়ে দুপুরে বিয়ের আয়োজন করা হয়। খাওয়ার পর্ব শেষ করে বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বরপক্ষের লোকজন।

এ সময় হাজির হন ইউএনও ও পুলিশ। তাদের দেখেই দৌড় দেন বর ও অতিথিরা। এ সময় ধরা পড়েন কনের বাবা। স্থানীয় সূএে জানা গেছে, দেউলডাংরা গ্রামের ভ্যানচালক জামাল উদ্দিনের মেয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। তার সঙ্গে হাড়িয়াকান্দি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলামের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার বিয়ের দিন নিয়মমেনে সকাল থেকে আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে হাজির হন ইউএনও। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বিয়ে। নান্দাইল উপজেলা ইউএনও এরশাদ উদ্দিন বলেন, জোর করে মাদরাসা ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে দিচ্ছিল পরিবারের লোকজন। স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছ থেকে খবর পেয়ে কনের বাবাকে বিয়ে বন্ধের জন্য বলা হয়।

এরপরও বিয়ে বন্ধ না করায় পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হয়।তখন বর ও তার পক্ষের লোকজন পালিয়ে যান। কনের জন্মসনদ যাচাই করে দেখা যায়, কনে নবম শ্রেণিতে পড়লেও নকল জন্মনিবন্ধনে তার বয়স ১৯ বছর দেয়া রয়েছে। তবে জন্মসনদে নেই স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর।

পরে কনের বাবাকে আটক করা হয়। ইউএনও এরশাদ উদ্দিন বলেন, অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনোমতেই বাল্য বিবাহ দেয়া যাবেনা।

Post a Comment

0 Comments